গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় এবং অস্ট্রেলিয়ান এইড- এর অর্থায়নে মুক্তি কক্সবাজার কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন “DFAT AHP Bangladesh Rohingya Response Phase IV Inclusive” প্রকল্পের আওতায়, ক্যাম্প-১২-এর দরবার হলে শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক এক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রকল্প-ব্যবস্থাপক জনাব মোঃ ফয়সাল বারীর সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্যাম্প-১২-এর ক্যাম্প ইন-চার্জ (CIC) জনাব মোঃ মিনহাজুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তি কক্সবাজারের উপ- প্রধান নির্বাহী জনাব সৈয়দ লুৎফুল কবির চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশ এর সমন্বয়কারী-(প্রটেকশন) হাফিজুর রহমান এবং অক্সফাম ইন বাংলাদেশ এর সিনিয়র গভ: লিয়াঁজো কর্মকর্তা মোঃ রাজু আহমেদ। ক্যাম্প-১২-এর মাঝি, ইমাম, যুবক-যুবতী, ছাত্র-শিক্ষক, হোস্ট কমিউনিটি নেতা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি ও বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম বাস্তবায়নকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা এ অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ক্যাম্প ইন-চার্জ মহোদয় বলেন, “শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা শুধুমাত্র আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্যাম্পে কর্মরত উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার দায়িত্ব নয়, বরং এটি সবার দায়িত্ব। ক্যাম্পে বসবাসকারী প্রত্যেকের সহযোগিতা ও সচেতনতার মাধ্যমে আমরা চাই, ক্যাম্প-১২ হোক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। আমার অফিসের দরজা সকলের জন্য উম্মুক্ত, আপনাদের যে কোন সেবা প্রদানে আমার সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করবো।”
প্রধান অতিথি সৈয়দ লুৎফুল কবির চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, “মুক্তি কক্সবাজার ১৯৯১ সাল থেকে কক্সবাজার জেলায় কাজ করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় মুক্তি কক্সবাজার সবসময় চেষ্টা করছে স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি ক্যাম্পে বসবাসরত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে। শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে নারী, যুবক ও কমিউনিটি নেতাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। আমরা চাই, সবাই একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোক এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করুক।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশ এর সমন্বয়কারী-(প্রটেকশন) হাফিজুর রহমান বলেন, “শান্তি ও নিরাপত্তা ক্যাম্পের প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। এজন্য নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের প্রকল্প মূলত অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান তৈরিতে কাজ করছে।”
ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণকারীরা তাদের মতামত দিতে গিয়ে বলেন যে, ক্যাম্প ও হোস্ট কমিউনিটির মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উভয়পক্ষকে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া ছাড়া কোন বিকল্প নেই। এসময় তারা বলেন যে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও এনজিওগুলো আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করুক, তাহলে ক্যাম্পের ভেতরকার সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে। যুবকদের মাদক ও সহিংসতা থেকে দূরে রাখতে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার উপর জোর দেন তারা।
অনুষ্ঠানের শেষে সভাপতি মহোদয় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে ক্যাম্প-১২ হবে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সহাবস্থানের একটি আদর্শ ক্যাম্প।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবদিকবৃন্দ, অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশ এর প্রকল্প কর্মকর্তা সাইদুল হক শুভ, এবং মুক্তি কক্সবাজারের প্রকল্প সমন্বয়কারী এমদাদুল হক খোকনসহ অন্যান্য প্রকল্প কর্মকর্তাগণ ।