২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে মুক্তি কক্সবাজার কর্তৃক “মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬” পালন করা হয়। দিবস উপলক্ষে প্রভাতফেরীসহ কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পার্ঘ্য অর্পণ এবং সংস্থার প্রধান কার্যালয় “মুক্তি ভবন”-এ এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
মুক্তি কক্সবাজারের উপ-প্রধান নির্বাহী সৈয়দ লুৎফুল কবির চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সোমেশ্বর চক্রবর্তী, প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টা বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট শিবু লাল দেবদাস, এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শরমিন সিদ্দিকা লিমা।
২১শে ফেব্রুয়ারিকে “বাঙালি জাতিসত্তার স্বরূপের আন্দোলন” এবং একুশের চেতনাকে আমাদের “ভাষা ও সাহিত্যের সুদূর প্রসারী জাগ্রত প্রচেষ্টা” উল্লেখ করে অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে দেশের সকল ক্ষেত্রে, মৌখিক কিংবা প্রকাশনায়, শুদ্ধভাবে বাংলা ভাষাকে উপস্থাপন করার উপর জোর প্রদান করেন। প্রধান আলোচক তাঁর বক্তব্যে সকলকে বাংলা ভাষা সঠিকভাবে শেখার পাশাপাশি অন্যান্য ভাষায়ও দক্ষতা অর্জনে অনুপ্রাণিত করেন এবং মাতৃভাষার সঠিক চর্চার মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে বিশ্বের বুকে ছড়িয়ে দিতে উৎসাহ প্রদান করেন।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে সকলকে সুভাষী হবার অনুরোধ করে বলেন, “যে ভাষা রক্ষা করার জন্য সালাম, রফিক, জব্বার, বরকতসহ আরো অনেক বাঙালি জীবন দিয়েছেন, তার সম্মান আমাদেরকে টিকিয়ে রাখতে হবে বিশুদ্ধ লেখনী ও প্রমিত মৌখিক কথোপকথনের মাধ্যমে।”
নির্বাহী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শরমিন সিদ্দিকা লিমা তাঁর বক্তব্যে শুদ্ধ বাংলা ভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে বাঙ্গালীর গৌরবান্বিত ভাষা সংগ্রামের ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করার আহ্বান জানান এবং মানুষের কল্যাণে মুক্তিকক্সবাজারের সকল কাজে সকলকে পাশে থাকার অনুরোধ করেন।
এছাড়াও, উক্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সুজিত কুমার ভৌমিক (পরিচালক– মানবসম্পদ ও প্রশাসন), আব্দুস সামাদ আজাদ (পরিচালক– আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্স), অলক কান্তি শর্মা, এবং বেবী ভট্টাচার্যসহ সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীবৃন্দ।
পরিশেষে, মুক্তি কক্সবাজারের উপ-প্রধান নির্বাহী সৈয়দ লুৎফুল কবির চৌধুরী তার সমাপনী বক্তব্যে উক্ত অনুষ্ঠান সফলভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য সকল পর্যায়ের কর্মীদেরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে “মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬” পালন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভার পরিসমাপ্তি ঘোষণা করেন।