গত ১৩ অক্টোবর ২০২৫ ইং তারিখে, অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশ এর কারিগরি সহায়তায় এবং অস্ট্রেলিয়ান এইড এর অর্থায়নে মুক্তি কক্সবাজার কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন DFAT AHP Bangladesh Rohingya Response Phase IV Inclusive প্রকল্পের আওতায়, ক্যাম্প-০৩-এর দরবার হলে শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক এক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রকল্প ব্যবস্থাপক জনাব মোঃ ফয়সাল বারীর সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্যাম্প-০৩-এর ক্যাম্প ইন-চার্জ (সিআইসি) জনাব মোঃ শরিফুল ইসলাম, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তি কক্সবাজারের উপ-প্রধান নির্বাহী সৈয়দ লুৎফুল কবির চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী ক্যাম্প ইন-চার্জ (এসিআইসি) জনাব মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়াও, উক্ত শান্তি ও নিরাপত্তা ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন ক্যাম্প-০৩-এর মাঝি, ইমাম, যুবক-যুবতী, ছাত্র -শিক্ষক, হোস্ট কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি ও বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম বাস্তবায়নকারী সংস্থার প্রতিনিধিগণ।
সভাপতির বক্তব্যে সিআইসি মহোদয় বলেন, “শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও মানবিক কার্যক্রম বাস্তবায়নকারী সংস্থাসমূহের পাশাপাশি সকলের অংশগ্রহণ অত্যাবশকীয়।” তিনি রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে মায়ানমার থেকে শান্তির সন্ধানে এদেশে এসে নিজেদের মধ্য কোনোরূপ সংঘাতপূর্ণ অবস্থা তৈরি হয় এমন আচরণ না করার উদাত্ত আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, “মুক্তি কক্সবাজার ১৯৯১ সাল থেকে কক্সবাজার জেলায় চলমান কাজের ধারা অব্যাহত রেখে, স্থানীয় জনগণ এবং ক্যাম্পে বসবাসকারী উভয়ের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, নারী, যুবক এবং সম্প্রদায়ের নেতাদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের মাধ্যমে অপহরণ, জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা এবং মুক্তিপণ-সম্পর্কিত অপরাধের ঘটনা নিরসনে সক্রিয় ভূমিকা পালনে উৎসাহ প্রদান করেন।
বিশেষ অতিথি বলেন, “শান্তি ও নিরাপত্তা ক্যাম্পের প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার।” নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যুবকদের মাদক ও সহিংসতা থেকে দূরে রাখতে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার উপর তিনি জোর প্রদান করেন।
ক্যাম্পেইনে উপস্থিত সকল অংশগ্রহণকারী উন্মুক্ত আলোচনা-পর্বে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, “আমরা চাই, রোহিঙ্গা-ক্যাম্পে খেলাধুলা ও নারী শিক্ষামূলক কার্যক্রম আরো বাড়ানো হোক, যেনো আমরা আরো বেশি বেশি গঠনমূলক কাজে যুক্ত থাকতে পারি।”
এছাড়াও, উক্ত শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক ক্যাম্পেইনে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন ক্যাম্প-০৩ এর মাঝি, ইমাম, এবং হোস্ট কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ। তাদের বক্তব্যে ক্যাম্পের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রতকরনের পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে।
উল্লেখিত অতিথিবৃন্দ ছাড়াও এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রথিতযশা সাংবাদিকবৃন্দ এবং মুক্তি কক্সবাজারের প্রকল্প সমন্বয়কারী জনাব এমদাদুল হক খোকনসহ প্রকল্পের অন্যান্য কর্মীবৃন্দ।