যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (FCDO)-এর অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM)-এর কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়িত “Empowering Rohingya Entrepreneurs through Skills, Financial Access and Market Formalization” প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তা হিসেবে বিকশিত করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে মুক্তি কক্সবাজার।
প্রকল্প-কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ৫০ জন নারী উদ্যোক্তাকে তাদের ব্যবসায়িক জ্ঞান, কারিগরি দক্ষতা এবং আর্থিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সহায়তা প্রদান করেছে মুক্তি কক্সবাজার। প্রকল্প-অংশগ্রহণকারীরা মানসম্মত পণ্য উৎপাদন, ব্যবসা পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা, আর্থিক সাক্ষরতা, বাজার বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল সাক্ষরতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করেন। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা ব্যবসা পরিচালনা, বাজার চাহিদা বোঝা এবং টেকসই পদ্ধতিতে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় বাস্তব জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেন।
প্রশিক্ষণ শেষে প্রতিটি নারী উদ্যোক্তাকে নিজস্ব ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণের জন্য ১৫,০০০ টাকা করে নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়। এই আর্থিক সহায়তাকে কাজে লাগিয়ে তারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প ও পোশাকজাত পণ্য উৎপাদন ও বিপণন করছেন। এর ফলে তারা নিজেদের এবং পরিবারের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রকল্পটি তাদের অর্জিত দক্ষতাকে আয়মুখী কর্মকাণ্ডে রূপান্তর করে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
গত ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে এই ৫০ জন নারী উদ্যোক্তা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেন। তারা পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করেন। ব্যবসার এই আইনগত স্বীকৃতি তাদের উদ্যোক্তা জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি, এর ফলে তারা স্থানীয় অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে তাদের আরও দৃঢ়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির মাধ্যমে উদ্যোক্তারা এখন তাদের ব্যবসা আরও সম্প্রসারণ করছেন, নতুন বাজারে প্রবেশ করছেন, গ্রাহকদের আস্থা অর্জন এবং স্থানীয় বিধি-বিধান অনুসরণ করে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে অধিকতর সক্ষমতা অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে, এই স্বীকৃতি তাদের ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার সম্ভাবনাকেও শক্তিশালী করেছে।
মুক্তি কক্সবাজারের দক্ষতা উন্নয়ন, আর্থিক সহায়তা এবং ব্যবসার আনুষ্ঠানিকীকরণের সমন্বিত এই উদ্যোগ নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষুদ্র ও অনানুষ্ঠানিক কার্যক্রম থেকে টেকসই ও সম্ভাবনাময় ব্যবসার পথে এগিয়ে যেতে সহায়তা করছে। তাদের এই সাফল্য জীবিকাভিত্তিক কর্মসূচির ইতিবাচক প্রভাবের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ এবং এটি প্রমাণ করে যে, নারীনেতৃত্বাধীন উদ্যোগসমূহ পারিবারিক কল্যাণ, সামাজিক স্থিতিশীলতা, সম্প্রদায়ের সহনশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।