গত ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৬-এ সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরপরই দ্রুত ও কার্যকরভাবে সাড়া প্রদান করে মুক্তি কক্সবাজার।
এই অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং অসংখ্য রোহিঙ্গা পরিবারের জীবন, নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতার ওপর গভীর প্রভাব পড়ে। উদ্ভূত মানবিক সংকট মোকাবিলায় মুক্তি কক্সবাজার তাৎক্ষণিকভাবে তার কর্মীদের মোতায়েন করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য জরুরি সহায়তা কার্যক্রম শুরু করে, যাতে তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় সেবা ও সহায়তা পেতে পারে।
অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে মুক্তি কক্সবাজার একটি সমন্বিত মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তা (Mental Health and Psychosocial Support - MHPSS) কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর আওতায় সাইকোলজিক্যাল ফার্স্ট এইড (PFA), সাইকো-সোশ্যাল সাপোর্ট (PSS), ব্যক্তিগত কাউন্সেলিং এবং প্রয়োজনভিত্তিক বিভিন্ন বিশেষায়িত ও অত্যাবশ্যকীয় সেবায় রেফারেল প্রদান করে। এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিলো দুর্ঘটনাজনিত মানসিক চাপ ও উদ্বেগ হ্রাস করা, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মানসিক সুস্থতা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করা, তাদের বিপদ মোকাবিলা করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং সংকট-পরবর্তী পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করা।
একই সঙ্গে, UNFPA এবং CARE Bangladesh-এর সহায়তায় পরিচালিত প্রকল্পের অধীনে মুক্তি কক্সবাজারের উইমেন ফ্রেন্ডলি স্পেস (WFS) এবং উইমেন অ্যান্ড গার্লস সেফ স্পেস (WGSS) ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত নারী, কিশোরী এবং পরিবারগুলোর জন্য অস্থায়ী আশ্রয় ও নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করে। এসব নিরাপদ স্থান শুধু আশ্রয় প্রদানেই সীমাবদ্ধ ছিলোনা; বরং এগুলো সুরক্ষা সেবা, মনোসামাজিক সহায়তা, তথ্য প্রদান, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে।
কার্যকর ও সমন্বিত মানবিক সাড়াপ্রদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেক্টর, সমন্বয় কাঠামো এবং মানবিক অংশীদারদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করেছে মুক্তি কক্সবাজার। সংস্থাটি পরিস্থিতির ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ, দ্রুত চাহিদা মূল্যায়ন, উদীয়মান ঝুঁকি ও সুরক্ষা উদ্বেগ চিহ্নিতকরণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যক্রম অভিযোজন অব্যাহত রেখে, ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েন কাজ করেছে, যাতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী প্রয়োজনীয় সহায়তা লাভের পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং মানসিক সুস্থতা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়।