গত ১৬ই ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, যথাযোগ্য মর্যাদায় “মহান বিজয় দিবস-২০২৫” উদযাপন করেছে মুক্তি কক্সবাজার। এ উপলক্ষে ভোর ৬:০০টায় সংস্থার প্রধান কার্যালয় “মুক্তি ভবন”-এ জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও ৬:৩০ ঘটিকায় র্যালী সহকারে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচী শুরু হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে, সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় যেখানে সংস্থার প্রধান কার্যালয় ও প্রকল্পসমূহ হতে আগত কর্মীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। সমবেত কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীত, দেশাত্ববোধক গান, কবিতা এবং নৃত্য পরিবেশনে অনুষ্ঠানটি হয়ে উঠে উপভোগ্য। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তি কক্সবাজারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক জনাব সোমেশ্বর চক্রবর্তী এবং প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার প্রাক্তন সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টা বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট জনাব শিবু লাল দেবদাস। আরও উপস্থিত ছিলেন সাধারণ পরিষদ সদস্য জনাব দুলাল কান্তি চক্রবর্তী, অধ্যাপক জনাব অজিত দাশসহ সংস্থার সর্বস্তরের কর্মীবৃন্দ। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থার প্রধান নির্বাহী, জনাব বিমল চন্দ্র দে সরকার।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক জনাব সোমেশ্বর চক্রবর্তী তার বক্তব্যে বলেন, “শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা ভৌগোলিক স্বাধীনতা পেয়েছি সত্য, কিন্তু সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম প্রকৃতপক্ষে একটি সদা চলমান প্রক্রিয়া।” প্রধান আলোচক এডভোকেট জনাব শিবু লাল দেবদাস তার বক্তব্যে “স্বাধীনতা” শব্দটিকে একটি বহুল চর্চিত শব্দ হলেও এর প্রকৃত স্বাদগ্রহণ কঠিন উল্লেখ করে বলেন, “স্বাধীনতার সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। শুধু নিজে স্বাধীনতার সুবিধা ভোগ করলেই হবে না, প্রকৃত স্বাধীনতা সেটাই যেখানে সকলে সমানভাবে তার অধিকার ভোগ করতে পারে।” এছাড়াও, সংস্থার সকল কর্মীবৃন্দ তাদের আলোচনায় বিজয় দিবসের তাৎপর্য উল্লেখপূর্বক স্বাধীনতার ৫৫তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে, দীর্ঘ ০৯ মাস পাকবাহিনীর বিপক্ষে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদ ও ০২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম-হানির মতো সর্বোচ্চ ত্যাগের প্রতি পরম শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
আলোচনা সভার শেষ পর্যায়ে অনুষ্ঠানের সভাপতি জনাব বিমল চন্দ্র দে সরকার, প্রধান নির্বাহী মুক্তি কক্সবাজার, মুক্তিযুদ্ধকালীন ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তার বক্তব্যে বলেন, “প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জন অতি দূরহ! স্বাধীনতা যদি এতই সহজলভ্য হতো, তবে ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০ এর পর ২০২৪ এ আরেকবার স্বৈরাচার পতনের ডাক দিতে হতো না।” গনতন্ত্রের মূলমন্ত্র ও মুক্তি কক্সবাজারের মিশন “ভালো হওয়া এবং ভালো করা” প্রত্যয়ে উজ্জীবিত হয়ে নিজে উত্তম হয়ে সকল ধরণের বৈষম্য, কুসংস্কার ও দারিদ্র থেকে অপরকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সততা, স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও নিয়মানুবর্তিতার সহিত দায়িত্ব পালনের উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
পরিশেষে, তিনি আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সফলভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য সংস্থার সকল পর্যায়ের কর্মীবৃন্দ এবং তমা পাল, ত্রিপর্না ধর ও আশীষ কুমার রায়সহ মুক্তি কক্সবাজারের সাংস্কৃতিক দলের সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করেন।