মানবিক ও উন্নয়ন খাতের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটের সাথে সফলভাবে অভিযোজনের লক্ষ্যে এবং কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রকল্প-প্রস্তাবনা ও দাতা সংস্থার নিকট প্রতিবেদন লিখা-বিষয়ক দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণের আয়োজন করে মুক্তি কক্সবাজার।
গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে মুক্তি কক্সবাজারের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণটি পরিচালনায় সহযোগিতা করে ব্র্যাক পুলড ফান্ড। মানবিক ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মানসম্মত প্রকল্প-প্রস্তাবনা প্রস্তুত, কার্যকর তহবিল সংগ্রহ এবং দাতা সংস্থার চাহিদা অনুযায়ী সময়োপযোগী ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন লিখার গুরুত্ব বিবেচনায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণটি অংশগ্রহণকারীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি সংস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রশিক্ষণটিতে প্রকল্প-প্রস্তাবনা লিখার বিভিন্ন ধাপ, সমস্যা ও প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ, যৌক্তিক কাঠামো প্রণয়ন, লক্ষ্য ও ফলাফল নির্ধারণ, বাজেট প্রস্তুতকরণ, তহবিল সংগ্রহের কৌশল এবং দাতা সংস্থার জন্য মানসম্মত প্রতিবেদন তৈরির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়াও, দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা, দাতা সংস্থার সাথে কার্যকর যোগাযোগ রক্ষা, অংশীদারিত্ব উন্নয়ন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি যথাযথভাবে উপস্থাপনের কৌশল সম্পর্কেও ফলপ্রসূ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণ চলাকালে অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে দলীয় আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময়, ব্যবহারিক উদাহরণ বিশ্লেষণ এবং প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা প্রকল্প-প্রস্তাবনা ও প্রতিবেদন লিখার ক্ষেত্রে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান।
মোট ২৩ জন অংশগ্রহণকারী (০৬ নারী, ১৭ পুরুষ) এই প্রশিক্ষণে অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনা সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রশিক্ষণের সমাপনী সেশনে প্রশিক্ষকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মুক্তি কক্সবাজারের প্রধান নির্বাহী বিমল চন্দ্র দে সরকার। একইসঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগের মাধ্যমে সংস্থার কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিতামূলক ও ফলপ্রসূ করে তোলার আহ্বান জানান তিনি। সেশন পরিচালনাকারীরা আশা প্রকাশ করেন যে, এই ধরনের দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং মানবিক ও উন্নয়ন খাতে মুক্তি কক্সবাজারের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও টেকসই করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।