২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রিঃ তারিখে মুক্তি কক্সবাজারের ৩০ তম বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৫, সংস্থার প্রধান কার্যালয় “মুক্তি ভবন”-এর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তি কক্সবাজারের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি জনাব সন্তোষ শর্মা এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সংস্থার প্রধান নির্বাহী জনাব বিমল চন্দ্র দে সরকার।
জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পরিচিতি পর্ব দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয় যেখানে কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি জনাব সন্তোষ শর্মা স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, “মানবকল্যাণের যে মহান ব্রত নিয়ে মুক্তি কক্সবাজারের যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেই কল্যাণের পথ থেকে মুক্তি কক্সবাজার একবিন্দুও বিচ্যুত হয়নি। এর কৃতিত্ব সেইসব উপদেষ্টামন্ডলী ও কর্মকর্তা-কর্মীবৃন্দের যাদের সদুপদেশ, দিকনির্দেশনা এবং অক্লান্ত পরিশ্রম ও আন্তরিকতায় মুক্তি কক্সবাজার শত বাধাসত্বেও মানবতার কল্যাণে দৃঢ়পদে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে।”
মুক্তি কক্সবাজারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক জনাব সোমেশ্বর চক্রবর্তী, তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন যে, অশিক্ষা, দারিদ্র ও সকল-ধরণের বৈষম্য ও পশ্চাৎপদতার নিরসনকল্পেই মুক্তি কক্সবাজারের জন্ম। দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় মুক্তি কক্সবাজারের ন্যায় প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরী বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
মুক্তি কক্সবাজারের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জনাব শিবু লাল দেবদাস তাঁর বক্তব্যে মুক্তি ককসবাজার প্রতিষ্ঠার জন্মলগ্নের সময় বিভিন্ন প্রতিকূলতার চিত্র তুলে ধরেন এবং মানবসেবায় সংকল্পবদ্ধ থেকে সকল কর্মীবৃন্দকে আরো সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও কর্মে আন্তরিক হতে আহবান জানান। তিনি ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে মানব সেবার ধারা অব্যাহত রাখতে মুক্তি কক্সবাজারের কার্যক্রমে সকলকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা প্রদানের আহবান জানান।
কার্যনির্বাহী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জনাব শরমিন সিদ্দিকা লিমা, ২৯ তম বার্ষিক সাধারণ সভার কার্যবিবরণী ও বার্ষিক প্রতিবেদন-২০২৫ সকলের সামনে উপস্থাপন করেন। এছাড়াও, তিনি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নাধীন কার্যক্রমের গুণগতমানের প্রশংসা করেন। সংস্থাকে নিজের মনে করে সঠিকভাবে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে সংস্থাকে আরো সামনে এগিয়ে নেয়া এবং ভবিষ্যতে সাধারণ পরিষদ এবং কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প কার্যক্রম পরিদর্শন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মুক্তি কক্সবাজারের প্রধান নির্বাহী জনাব বিমল চন্দ্র দে সরকার, সংস্থার ক্ষুদ্রঋণসহ অন্যান্য মানবিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের নিরীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এছাড়াও, তিনি সংস্থার চলমান ৩৩টি প্রকল্পের অর্জন ও অগ্রগতি সম্পর্কে সচিত্র প্রতিবেদনের মাধ্যমে তথ্যবহুল আলোচনা করেন।
উক্ত সভার সভাপতি জনাব সন্তোষ শর্মা ২৯তম বার্ষিক সাধারণ সভার কার্যবিবরণী, বার্ষিক প্রতিবেদন-২০২৫, আর্থিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন-২০২৫ এবং উপস্থাপিত প্রকল্পসমূহের অর্জন ও অগ্রগতি সম্পর্কে উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তরপর্ব পরিচালনা করেন এবং সাধারণ পরিষদ সদস্যদের নিকট তা অনুমোদনের জন্য পেশ করেন, যা সকলের সম্মতিতে অনুমোদিত হয়।
সভায় সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা জনাব অ্যাডভোকেট সুজিত চোধুরী, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জনাব অধ্যাপক সোমেশ্বর চক্রবর্তী, সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টা বিশিষ্ট আইনজীবী জনাব শিবু লাল দেবদাস, কার্যকরী পরিষদের সহ-সভাপতি অধ্যাপক জেবুন নেছা, সাধারণ সম্পাদক শরমিন সিদ্দীকা লিমাসহ সাধারণ এবং নির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং মুক্তি কক্সবাজারের প্রধান নির্বাহী, উপ-প্রধান নির্বাহী, সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যবৃন্দ, ও প্রকল্প সমন্বয়কারীসহ প্রায় ৮০ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।