গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে ক্যাম্প-০৪-এ “Empowering Rohingya Entrepreneurs through Skills, Financial Access, and Market Formalization (ERESFM)” প্রকল্পের প্রকল্প-অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। মুক্তি কক্সবাজার কর্তৃক বাস্তবায়িত এ প্রকল্পটি যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (FCDO)-এর অর্থায়ন এবং ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (IOM)-এর কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে।
প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো ক্যাম্প-০৪, ১২ ও ১৯-এর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং সংলগ্ন হোস্ট কমিউনিটির সদস্যদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি করা। দক্ষতা উন্নয়ন, আর্থিক সেবার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বাজার ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিকীকরণের মাধ্যমে টেকসই জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রকল্পটি কাজ করবে।
উক্ত প্রকল্প-অবহিতকরণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন মুক্তি কক্সবাজারের উপ-প্রধান নির্বাহী সৈয়দ লুৎফুল কবির চৌধুরী। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি মানবিক সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং বাজারে প্রবেশাধিকারের নিশ্চিতের ক্ষেত্রে মুক্তি কক্সবাজারের দীর্ঘদিনের অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে ক্যাম্পে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতার উপর গুরুত্ব প্রদান করেন।
প্রধান অতিথি ক্যাম্প-০৪-এর ক্যাম্প-ইন-চার্জ (CiC) সুরাইয়া আক্তার সুইটি তাঁর বক্তব্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থায়িত্ব, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং ফলাফলভিত্তিক কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “এসব বিষয় নিশ্চিত করা গেলে রোহিঙ্গা ও হোস্ট কমিউনিটির জীবনে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।”
কর্মশালায় ERESFM প্রকল্পের প্রকল্প-সমন্বয়কারী সাত্যকি রায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য, প্রধান প্রধান কার্যক্রম এবং প্রত্যাশিত ফলাফল বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন। তিনি প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন ও প্রকল্প-অংশগ্রহণকারীদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করেন।
কর্মশালায় সাইট ম্যানেজমেন্ট টিম, অংশীদার সংস্থা, বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও), জীবিকাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ, কমিউনিটি প্রতিনিধি এবং নারী অংশগ্রহণকারীরা অংশ নেন। আলোচনায় তারা দক্ষতা উন্নয়ন, আর্থিক সেবায় প্রবেশাধিকার এবং বাজার-সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও উত্তম চর্চাগুলো তুলে ধরেন। পাশাপাশি দক্ষতার ঘাটতি, আর্থিক প্রতিবন্ধকতা এবং বাজারে প্রবেশের সীমাবদ্ধতা দূরীকরণে করণীয় বিষয়েও মতামত প্রদান করেন।
সকল অংশীজনের সম্মিলিত সহযোগিতা ও অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে কর্মশালার সফল পরিসমাপ্তি ঘটে। প্রকল্প-অংশগ্রহণকারীদের জন্য টেকসই জীবিকা, অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি এবং আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধিতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সকলে।