গত ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে অক্সফামের একটি প্রতিনিধি দল কক্সবাজারের ক্যাম্প-১৯ এবং পালংখালী হোস্ট কমিউনিটিতে বসতবাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষ ও জীবিকা সহায়তা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
উক্ত সফরে নেতৃত্ব দেন ফাতেমা তুজ জোহরা (হেড অব ইকোনমিক ইনক্লুশন অ্যান্ড জাস্টিস, অক্সফাম)। তার সঙ্গে ছিলেন তাসনিম মোস্তাক (ইনোভেশন লিড, অক্সফাম এশিয়া), সৈয়দা মাহমুদা জাহান (প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর, অক্সফাম), মো. মোস্তফা আলী (প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর, অক্সফাম), মো. শরিফুল ইসলাম (সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার, অক্সফাম), এবং মুক্তি কক্সবাজারের পক্ষ থেকে সৈয়দ লুৎফুল কবির চৌধুরী (উপ-প্রধান নির্বাহী) ও মো. খাইরুল ইসলাম (পরিচালক-মনিটরিং এন্ড ইভ্যালুয়েশন)।
প্রতিনিধি দল কমিউনিটি পর্যায়ে ক্লাইমেট স্মার্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে বসতবাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষ, যৌথ সবজি বাগান, নার্সারি, মুরগী পালন, পুষ্টিকর খাবার রান্না প্রদর্শনী এবং মাশরুম উৎপাদন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এসময় তারা সরাসরি প্রকল্প অংশগ্রহণকারীদের সাথে কথা বলে জানতে পারেন কিভাবে প্রকল্পের উদ্যোগসমূহ তাদের খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি উন্নয়ন এবং আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।
প্রকল্প-সমন্বয়কারী এমদাদুল হক খোকন “Strengthening Livelihood and Food Security (SLFS)” এবং “Harvesting Hope” প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরেন, যা জলবায়ু-সহনশীল বাগান ও টেকসই জীবিকা গড়ে তোলার জন্য প্রতিনিয়ত কমিউনিটির সাথে যৌথভাবে কাজ করছে। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা তাদের মন্তব্যে বলেন, “ইতোমধ্যেই রান্না প্রদর্শনী পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে, উদ্ভাবনী কার্যক্রম খরচ কমাচ্ছে ও সবজি উৎপাদন বাড়াচ্ছে, এবং শুধুমাত্র জরুরি সহায়তায় সীমাবদ্ধ না থেকে দীর্ঘমেয়াদে কমিউনিটির সহনশীলতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে।”
পরে তারা মুক্তি কক্সবাজারের প্রধান নির্বাহী বিমল চন্দ্র দে সরকারের সাথে বৈঠক করেন এবং বর্তমানে কক্সবাজার রোহিঙ্গা রেসপন্সে দাতা সংস্থার অর্থ সহায়তার ধরন, পরিবর্তন, প্রবণতা ও ভবিষ্যৎ মানবিক সহায়তা প্রদানের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়াও প্রধান নির্বাহী মহোদয় ধারাবাহিক মানবিক সহায়তা ও জীবিকায়ন কর্মসূচি পরিচালনা, লোকালাইজেশন এবং সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কারিগরি সহায়তা প্রদানের জন্য প্রতিনিধিদল এবং অক্সফামকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সার্বিকভাবে, এই সফর ছিল শেখা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ও হোস্ট কমিউনিটির জন্য নতুন আশার সূচনা তৈরি করা।